
আহসান হাবীব আরমান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি বিএনপি নেতৃবৃন্দের সম্মানে ইফতার মাহফিল পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য ও বিএনপি আইসিটি বিভাগের উপদেষ্টা ফয়সল আলিম, বিশেষ অতিথি হিসাবে জয়পুরহাট জর্জ কোর্টের পিপি এ্যাডঃ শাহীনুর ইসলাম শাহীন, জিপি এ্যাডঃ সালামত উল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা আঃ রবসহ বিএনপি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ফয়সাল আলিম বলেন জয়পুরহাটে বিএনপি এমপি হয়নি বলে উন্নয়ন থামে থাকবে না। উন্নয়ন হবে, হতেই হবে। জয়পুরহাটে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হওয়ার সমস্যা গুলি সাংবাদিক ও রাজনৈতিকদের বিশ্লেষণ মতে ১০টি কারন সমুহ উল্লেক করেন জয়পুরহাট-১ আসনটি বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই ঐতিহাসিকভাবে ধানের শীষের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ আসনে দলটি কখনও পরাজিত হয়নি। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর কাছে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হয়। প্রথমত: প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বড় একটি অংশের নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে গ্রুপ রাজনীতির ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়। এতে বাদ পড়া নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ জমে উঠে এবং তা প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রভাব ফেলে। সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কমিটি গঠন করা হলে ফল ভিন্ন হতে পারত। এ নির্বাচন প্রমাণ করেছে গ্রুপ রাজনীতি দলীয় ক্ষতির বড় কারণ।
দ্বিতীয়ত: সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রার্থী অপছন্দের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আগে যেখানে ধানের শীষের প্রার্থী হলেই জয় নিশ্চিত ছিল, এবার ভোটাররা প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীকেও বিবেচনায় নিয়েছে। ফলে বহু ভাসমান ভোটার অন্য প্রতীকে ভোট দেয়।
তৃতীয়ত: নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ঘাটতি ছিল। বড় পরিসরের সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় বিএনপির শক্ত সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কমিটি সঠিকভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়।
চতুর্থত: প্রার্থীর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস (Over Confidence) পরাজয়ের অন্যতম কারণ। তিনি নিজের বিজয় নিশ্চিত ধরে নিয়ে অনেক ভোটব্যাংক ও প্রভাবশালী নেতা-গোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভোট চাননি বা সহযোগিতা চাননি।
পঞ্চমত: বৈধ প্রার্থী ঘোষণার পরও প্রার্থী জেলার কেন্দ্রীয় তিন নেতার সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ ও পরামর্শ করেননি এবং তাদেরকে নির্বাচনে সম্পৃক্ত করতে পারেননি। ফলে নির্বাচন পরিচালনায় অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ষষ্ঠত: নির্বাচনের আগের দিন ভোট কেনার অভিযোগে প্রার্থীর আত্মীয়দের দ্বারা এক স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীকে আক্রমণ, শাড়ি খুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং সমর্থকদের আহত করার ঘটনা ঘটে। ওই নারী প্রার্থী শ্লীলতাহানির মামলা ও প্রচারণা চালালে বিষয়টি ভোটে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সপ্তমত: ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে প্রার্থী ও তার সহযোগীদের কিছু প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডও নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। যেমন চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যু, কমিটি বানিজ্য, দলীয় কোন্দল, মামলা বানিজ্য ইত্যাদি।
অষ্টমত: প্রচারণায় কিছু চিহ্নিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়, যা বিএনপির ত্যাগী কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
নবমত: জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিল, যা তাদের বিজয়ে সহায়ক হয়।
দশমত: প্রচারণার জন্য বিএনপি প্রার্থীর আর্থিক সক্ষমতার অভাব ছিল। প্রয়োজনীয় সময়ে প্রচার ব্যয় জোগাতে না পারায় নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ে এবং প্রচারণা যথাযথভাবে চালানো সম্ভব হয়নি।
ভোট শেষ হয়ে গেছে, তাই কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য নেতাদের দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। হাজার হাজার ধানের শীষের ভোটার শুধুমাত্র কারও কথায় জামায়াতে ইসলামিকে ভোট দিয়েছে—এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়। এখন মিথ্যাচার, দোষারোপ ও গালাগালি বন্ধ করে নিজেদের ভুলগুলো পর্যালোচনা করা জরুরি। রাজনীতি কখনও গুটি কয়েক কর্মী নিয়ে নয়, সবাইকে নিয়েই করতে হয় এই শিক্ষা আমরা এবার বাস্তবে উপলব্ধি করেছি।