
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত ৯ম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও আল্টিমেটাম দিয়েছে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন পে স্কেল ঘোষণা না হলে ২৮ মার্চ থেকে কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সভা থেকে নেতারা জানান, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ৯ম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, কর্মবিরতি এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা।
বৈষম্য দূরীকরণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি
নেতারা বলেন, ২০১৫ সালে প্রণীত ৮ম জাতীয় পে স্কেলের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক গ্রেডে বেতন বৈষম্য রয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তারা।
তাদের মতে, বিদ্যমান কাঠামো বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কর্মসূচির রূপরেখা
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম ধাপে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপর কেন্দ্রীয়ভাবে সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি পূরণে অগ্রগতি না হলে ২৮ মার্চ থেকে কঠোর কর্মসূচি শুরু হবে।
সরকারের অবস্থান
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব, বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আহরণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ম পে স্কেল ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
বিশেষজ্ঞ মত
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। তবে কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই সিদ্ধান্ত জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সরকার ও চাকরিজীবী সংগঠনগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই এ ইস্যুর সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।