
নিজস্ব প্রতিবেদক ইমরান মাহমুদ
জান্নাত আক্তার রিয়া একজন বহুমুখী সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তি জগতের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় নাম। ২০০০ সালের ৯ অক্টোবর ঢাকা জেলার সাভার পৌরসভার মজিদপুর কাঠালবাগান গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী মজুমদার বংশের মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবজাল হোসেন মজুমদার এবং মাতা আয়েশা আক্তার মজুমদার। তিনি পরিবারের একমাত্র সন্তান। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত স্নেহ ও সৃজনশীল পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তার বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে মেধা ও প্রজ্ঞার প্রতিফলন ঘটেছে, যা তাকে আজ এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
মজুমদার বংশের উত্তরাধিকারী হিসেবে পারিবারিক ঐতিহ্য ও শিক্ষা তাকে ছোটবেলা থেকেই মার্জিত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। ২০০০ সালের অক্টোবর মাসে জন্মগ্রহণ করা রিয়া তার বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের কন্যা। কোনো ভাই-বোন না থাকায় পরিবারের সবটুকু স্নেহ, মমতা ও স্বপ্ন তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। এতে তিনি শৈশব থেকেই দায়িত্বশীল ও দৃঢ়চেতা হয়ে গড়ে উঠেছেন।
তার শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ কেটেছে সাভার পৌরসভার মজিদপুর কাঠালবাগান এলাকায়, যা তার স্থায়ী নিবাস। বর্তমানে তিনি সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকায় বসবাস করছেন।
জান্নাত আক্তার রিয়ার শিক্ষাজীবন বেশ বৈচিত্র্যময় ও অনুপ্রেরণামূলক। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয় গেন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। আনুমানিক ২০০৬ সালে, যখন তার বয়স মাত্র ছয় বছর, তখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির মাধ্যমে তার জ্ঞানার্জনের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকের পাঁচ বছরে তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাই নেননি, স্কুলের মুক্ত পরিবেশে তার ব্যক্তিত্বের ভিত্তিও তৈরি হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে অত্যন্ত সুনামের সাথে পড়াশোনা করেন। ২০১৪ সালে তিনি সেখান থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এরপর সাভার সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে ২০১৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
পড়াশোনার প্রতি গভীর অনুরাগ থাকা সত্ত্বেও জীবনের কিছু বাস্তবতার কারণে তাকে সাময়িকভাবে শিক্ষায় বিরতি নিতে হয়। কিন্তু দমে যাওয়ার মানুষ তিনি নন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও প্রযুক্তির প্রতি তীব্র আকর্ষণ থেকে তিনি আবার উচ্চশিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির খাগান স্থায়ী ক্যাম্পাসে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে অধ্যয়নরত। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই প্রকৌশলবিদ্যার যাত্রা ২০২৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। একমাত্র সন্তান হিসেবে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে এবং আগামীর দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি এখন পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।
পেশাগত জীবনে জান্নাত আক্তার রিয়া নিজেকে একজন নির্ভীক ও দক্ষ সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সততা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং সংবাদের পেছনের সত্য তুলে ধরার অদম্য স্পৃহা তাকে পাঠকদের কাছে বিশ্বস্ত করে তুলেছে। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রথম সারির গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দৈনিক সকালের বার্তা, দৈনিক লেখনী সংবাদসহ আরও অনেক স্বনামধন্য মাধ্যমে সাংবাদিকতার ছাপ রেখেছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি ডিজিটাল জগতেও তার পদচারণা ঈর্ষণীয়। তিনি একাধারে ডিজিটাল উদ্যোক্তা, সফল ফ্রিল্যান্সার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং সৃজনশীল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে তিনি নিজেকে একজন স্বাবলম্বী নারী হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার উপস্থিতি অত্যন্ত জোরালো। লিঙ্কডইন, ফেসবুক, ইউটিউব, পিন্টারেস্ট, ডিসকর্ড, টুইটার (এক্স), স্ন্যাপচ্যাট, রেডডিট, স্পটিফাই, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব মিউজিক, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি “জান্নাত আক্তার রিয়া অফিশিয়াল” (Jannat Akhtar Riya Official) নামে পরিচিত। এসব প্ল্যাটফর্মে তিনি তার সৃজনশীল কাজ, গান, কন্টেন্ট এবং দৈনন্দিন জীবনের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো ভক্ত ও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেন।
শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি তার অনুরাগ অপরিসীম। তিনি শুধু সংবাদ ও প্রযুক্তিতেই সীমাবদ্ধ নন, সুরের জগতেও তার বিচরণ রয়েছে। একজন সুকণ্ঠী সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি যেমন প্রশংসিত, তেমনি একজন মননশীল লেখক হিসেবেও তার কবিতা ও সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন মহলে সমাদৃত। এই বহুমুখী প্রতিভা তাকে একজন সত্যিকারের সব্যসাচী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
ভাষাগত দিক থেকেও তিনি অত্যন্ত পারদর্শী। মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে ও ভাব বিনিময় করতে পারেন।
ব্যক্তিগত জীবনে জান্নাত আক্তার রিয়া অত্যন্ত বিনয়ী ও ভ্রমণপিপাসু। নতুন জায়গা ঘুরে দেখা, বই পড়া এবং রান্না করা তার প্রিয় শখ। সাভারের মজিদপুর ও বিরুলিয়া অঞ্চলের এই কৃতী সন্তান বর্তমানে অবিবাহিত এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। নিজের কর্মদক্ষতা ও মেধা দিয়ে তিনি আগামী দিনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আরও বড় ভূমিকা রাখতে চান।